ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সমঝোতা না হলে দেশটির সন্দেহভাজন ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনা ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে’ হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, প্রয়োজন হলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ওই স্থাপনায় হামলা চালাতে সক্ষম যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এ হুঁশিয়ারি দেন বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হয়তো পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে হামলা চালাতে হতে পারে। চাইলে মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যেই এ অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব।
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাত আবারও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নিতে পারে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প সেই সম্ভাবনাও নাকচ করেননি।
তিনি বলেন, ইরান যদি কোনো চুক্তিতে না আসে, তাহলে আবারও যুদ্ধ শুরু হতে পারে। তবে দেশটি একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী বলে তিনি মনে করেন। দুই দেশের মধ্যে চুক্তি হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ট্রাম্প আরও বলেন, তিনি সামরিক সংঘাতের পরিবর্তে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে চান। কারণ, সমঝোতা হলে অনেক মানুষের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হবে।
এদিকে পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হুমকি নতুন নয়। এর আগে একাধিকবার এই স্থাপনাকে সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প। গত ১৬ অক্টোবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, নিউজম্যাক্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির অবকাঠামো পাহাড়ের গভীরে অবস্থিত এবং প্রয়োজনে পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে হামলা চালাতে হতে পারে।
পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন ইরানের নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনার কাছাকাছি অবস্থিত একটি সুরক্ষিত ভূগর্ভস্থ স্থাপনা। স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে সেখানে সুড়ঙ্গ ও নিরাপত্তাব্যবস্থার নির্মাণকাজের তথ্য উঠে এসেছে। তবে স্থাপনাটিতে ঠিক কী ধরনের পারমাণবিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, সে বিষয়ে প্রকাশ্যে নিশ্চিত তথ্য নেই।
ট্রাম্পের নতুন হুঁশিয়ারি এমন এক সময়ে এসেছে, যখন হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। এর আগে মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রণালির আশপাশে ইরানের কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে সীমিত পরিসরে হামলা চালিয়েছে বলে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
এপি জানিয়েছে, মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও সম্পদের ওপর ইরানের ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকির পর যুক্তরাষ্ট্র এসব হামলাকে ‘সীমিত প্রতিরক্ষামূলক অভিযান’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
এ পরিস্থিতিতে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সমঝোতার সম্ভাবনা এবং নতুন করে সামরিক অভিযান শুরুর আশঙ্কা—দুই বিষয়ই মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।