ভারতের সঙ্গে ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নের বিষয়ে আশাবাদী বাংলাদেশ। দেশের পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে চুক্তির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। এ বিষয়ে ভারতের পক্ষ থেকেও ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছে ঢাকা।
সোমবার (২ নভেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
তিনি বলেন, চলতি বছর মেয়াদ শেষ হতে যাওয়া গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তিটি নবায়নের বিষয়ে বাংলাদেশ আশাবাদী। ভারতও এ বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে বলে আশা করছে সরকার।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, ভারতের সঙ্গে চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যে একটি কমিটি গঠন করেছেন। আগামী ডিসেম্বরে বিদ্যমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। গঠিত কমিটিতে পানিসম্পদমন্ত্রী ও সরকারের অর্থ উপদেষ্টা নেতৃত্ব দিচ্ছেন। পাশাপাশি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিও রয়েছেন।
শামা ওবায়েদ বলেন, ভারতের সঙ্গে বিভিন্ন পর্যায়ে ইতোমধ্যে আলোচনা চলছে। অমীমাংসিত বিষয়গুলো সমাধানের জন্য আনুষ্ঠানিক আলোচনাও করা হবে। আসন্ন আলোচনায় ইতিবাচক ফল পাওয়া যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বিদ্যমান চুক্তি সরাসরি নবায়ন করা হবে, নাকি সংশোধিত শর্ত যুক্ত করে নতুন চুক্তি করা হবে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গঠিত কমিটির পর্যালোচনার ভিত্তিতেই এ বিষয়ে সরকারের আলোচনার অবস্থান নির্ধারণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ তার ন্যায্য দাবি আদায়ে সচেষ্ট থাকবে। দেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ পানির চাহিদাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়া হবে। বাংলাদেশের মানুষ ও জাতীয় স্বার্থের জন্য যে সিদ্ধান্ত সবচেয়ে বেশি উপযোগী হবে, সরকার সেভাবেই এগোতে চায়।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, গঙ্গার পানি বণ্টন নিয়ে ভারতের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখা এবং পানিসংকট মোকাবিলায় কার্যকর সমাধান বের করাই আলোচনার অন্যতম লক্ষ্য।
গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির পটভূমি
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ফারাক্কা ব্যারাজের মাধ্যমে গঙ্গার পানি বণ্টনসংক্রান্ত এই চুক্তির মেয়াদ ২০২৬ সালের ১২ ডিসেম্বর শেষ হওয়ার কথা।
চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নতুন বা সংশোধিত চুক্তির বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান নির্ধারণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এর আগে পানিসম্পদমন্ত্রীও বাংলাদেশের ন্যায্য পানির হিস্যা নিশ্চিত করতে নতুন চুক্তিতে গ্যারান্টি ক্লজ বা নিশ্চয়তামূলক ধারা যুক্ত করার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন।